পাখির চোখে রিও শহর। বিয়ের পর দ্বিতীয় মধুচন্দ্রিমা। কতবারই তো পরিকল্পনা করা হয়। শেষমেশ ব্যস্ততা বা অন্য কোনো ঝামেলায় তা আর হয়ে ওঠে না। তাই কিছুটা অপ্রত্যাশিতভাবেই যখন সুযোগটা এসে গেল, লুফে নিলাম আমি আর আমার স্বামী মেহবুব কবির।
পন্ডস এজ মিরাকলের আয়োজনে আমাদের ভালোবাসার গল্প লিখে পেয়েছিলাম ব্রাজিল ঘুরে আসার সুযোগ। সেটা গত বছর মে মাসের কথা।
১০ দিনের ভ্রমণ শুরু হলো তুরস্ক ঘুরে, টার্কিশ এয়ারলাইনে ভ্রমণের সুবাদে। সে গল্প অন্য কোনো দিন হবে।
ব্রাজিলে প্রথম গন্তব্য সাও পাওলো। দক্ষিণ আমেরিকার বড় বাণিজ্যিক শহর এটি। পাহাড়-জঙ্গল ঘেরা গুয়ারুজা সমুদ্রসৈকত ঘুরে দেখলাম এখানে। এরপর সাও পাওলো থেকে বাসে প্রায় ছয় ঘণ্টার পথ পেরিয়ে রিও-ডি জেনিরিওতে পৌঁছালাম। চাইলে বিমানেও যাওয়া যায়। এটি ব্রাজিলের প্রধান আকর্ষণ ও পর্যটনকেন্দ্র। রিও-ডি জেনিরিও শহরের ভেতরেই মনকাড়া কোপাকাপানা সি বিচ। চার কিলোমিটার দীর্ঘ এ সৈকতে যেন প্রাণের মেলা বসে। সন্ধ্যায় সমুদ্রের নীলাভ জলরাশি আর শহরের জ্বলজ্বলে আলো মিলে সৈকতে পড়ে এক অপূর্ব আভা। ছেড়ে আসতে মনে চায় না।
রিওর মধ্যেই ইতিহাস আর ঐতিহ্যে ঘেরা লাপা সিটি। এখানে এক মজার সিঁড়ি রয়েছে। নাম ম্যাজিক্যাল স্টেপস বা সেলারন স্টেয়ারস। সিঁড়ির ধাপগুলো তৈরি হয়েছে পৃথিবীর প্রায় ৬০টি দেশের ঐতিহাসিক ও নান্দনিক স্মৃতিবিজড়িত স্থানের টাইলস দিয়ে। গিয়ে মনে হলো এক মাসের ছুটি নিয়ে এলে ভালো হতো। কত কিছু দেখার আছে!
লাপা থেকে ট্রেনে চড়ে ১০ মিনিটের পথ করকোভাডো পাহাড়, যার চূড়ায় বিখ্যাত সেই স্টাচু, ক্রাইস্ট দ্য রিডিমার। রিও ডি জেনিরিও থেকেও এর দূরত্ব বেশি নয়। আলো ঝলমলে রোদেলা দিনে শহরের মধ্য থেকেই প্রকাণ্ড এ মূর্তি দেখা যায়।
মূর্তির দিকে তাকালে মনে হবে, যিশুখ্রিষ্ট সব ভালোবাসা দিয়ে যেন সবাইকে আগলে রেখেছেন। পবিত্রতায় মন এমনিতেই পরিশুদ্ধ হয়ে উঠবে। এখানকার পরিবেশটাও পরিচ্ছন্ন। সারাক্ষণ এর নিরাপত্তা ও পরিচ্ছন্নতার নজরদারি করা হয়। আমাদের ভাগ্য ভালো, আমরা রোদেলা দিন পেয়েছি। মেঘের কারণে অনেক সময় মূর্তি ঢাকা পড়ে যায়। মূর্তির ধবধবে সাদা পাথরগুলো সংগ্রহ করা হয়েছে সুইডেন থেকে। এর স্থপতি ব্রাজিলের হেইটর ডা সিলভা। মানুষের তৈরি এ এক অনবদ্য সৃষ্টি। বছরে নাকি এখানে ১৮ লাখের বেশি পর্যটক ভিড় জমায়। শুধু মূর্তি নয়, এখান থেকে পুরো শহর, সমুদ্রসৈকত একবারে চোখে পড়বে।

জেনে নিন
যেখানে যাবেন, ইন্টারনেট থেকে সে সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করে নিন। ওই স্থানের মানচিত্র সংগ্রহে রাখুন। পথে কোথাও ট্রানজিট নিলে ঘুরে দেখুন সে দেশটি। এ জন্য নানা এয়ারলাইনের সুবিধা-অসুবিধাগুলো মিলিয়ে দেখুন। বিদেশে আত্মীয়স্বজন থাকলে বেড়ানোর স্থান নির্বাচনে তাঁদের সহযোগিতা নিন। হোটেল-মোটেলের বুকিং সম্ভব হলে ইন্টারনেটে দেশে বসে করে নিন। সময় ও খরচ দু-ই বাঁচবে। সব জায়গাতে ইংরেজি ভাষার প্রচলন নেই। সম্ভব হলে কিছু স্থানীয় শব্দ জেনে নিন। না হলে আকারে-ইঙ্গিতে ভাববিনিময় করতে হবে। টুরিস্ট গাইড নেবেন।

সোনিয়া শামসুন
সূত্র: দৈনিক প্রথম আলো, জানুয়ারি ১৭, ২০১২