পাসপোর্ট হচ্ছে একটি দেশের সরকারের দেওয়া পরিচিতিপত্র। এর মাধ্যমেই দেশের বাইরে একজন ব্যক্তিকে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়। বিদেশে গিয়ে যদি কেউ সমস্যায় পড়ে, তবে পাসপোর্ট বহনকারী ব্যক্তি আইনি সহযোগিতা নিতে পারে। এ জন্য পাসপোর্টে সঠিক তথ্য দেওয়া খুবই জরুরি।
পাসপোর্ট পেতে হলে বেশ কিছু কাজ করতে হবে।
পাসপোর্ট অফিস, নির্ধারিত পোস্ট অফিস, (শুধু ঢাকা জেলা) ডিসি অফিস, ট্রাস্ট ব্যাংক বা সোনালী ব্যাংকের নির্ধারিত শাখা থেকে পাঁচ টাকা দিয়ে ফরম সংগ্রহ করতে হবে। ফরম অবশ্য ইন্টারনেটেও পাওয়া যাবে (www.forms.gov.bd)। সেই ফরম পূরণ করতে হবে। প্রয়োজন হলে অভিজ্ঞ ব্যক্তির সহায়তা নিতে হবে। ফরম পূরণ হলে ভালো কাউকে দিয়ে তা যাচাই করে নিন।
তিন কপি পাসপোর্ট সাইজের ও এক কপি স্ট্যাম্প সাইজের ছবি লাগবে। ফরম পূরণ করার পর ফরমে উল্লিখিত ব্যক্তিকে দিয়েই তা সত্যায়িত করতে হবে। পাসপোর্ট অফিস খুঁজে বের করুন এবং সরকার নির্ধারিত টাকা ব্যাংকে জমা দিয়ে টাকা জমা দেওয়ার রসিদ ফরমের সঙ্গে সংযুক্ত করুন। এরপর ফরমটি পাসপোর্ট অফিসে জমা দিন। আপনাকে একটি নির্দিষ্ট তারিখ দেওয়া হবে, সেই সময়ের মধ্যেই পাসপোর্ট তৈরি হবে এবং তদন্ত করার জন্য পুলিশ আপনার সঙ্গে যোগাযোগ করবে।
সাধারণত তিন ধরনের মেয়াদের মধ্যে পাসপোর্ট দেওয়া হয়। আর পাসপোর্ট হয় দুই ধরনের। একটি আন্তর্জাতিক পাসপোর্ট, অন্যটি ভারতীয় পাসপোর্ট। ভারতীয় পাসপোর্ট দিয়ে আপনি শুধু ভারতে যেতে পারবেন। আন্তর্জাতিক পাসপোর্ট দিয়ে আপনি পৃথিবীর যেকোনো দেশে যেতে আবেদন করতে পারবেন। আন্তর্জাতিক পাসপোর্ট তিন দিনের মধ্যে পেতে হলে পাঁচ হাজার টাকা জমা দিতে হবে। ভারতীয় পাসপোর্ট তিন দিনের মধ্যে পেতে হলে আড়াই হাজার টাকা ব্যাংকে জমা দিতে হবে।
২১ দিনের মধ্যে আন্তর্জাতিক পাসপোর্ট পেতে হলে প্রয়োজন হবে তিন হাজার টাকা। ভারতীয় পাসপোর্ট পেতে হলে প্রয়োজন হবে দুই হাজার টাকা। এক মাসের মধ্যে আন্তর্জাতিক পাসপোর্ট পেতে হলে দুই হাজার টাকা ব্যাংকে জমা দিতে হবে এবং ভারতীয় পাসপোর্ট পেতে হলে এক হাজার টাকা জমা দিতে হবে।
পাসপোর্ট হওয়ার পর তা ফটোকপি করে নিজের কাছে ভালোভাবে রাখুন। পাসপোর্ট হারিয়ে গেলে তখন এই ফটোকপি দেখেই আবার নতুন ফরমে নতুন করে তথ্য পূরণ করতে পারবেন। অন্যথায় নানা ধরনের সমস্যা হতে পারে।
(তথ্যসূত্র: পাসপোর্ট অফিস, ঢাকা এবং রামরু-এনজিও প্রতিষ্ঠানের তথ্যভান্ডার)

কামরুজ্জামান
সূত্র: দৈনিক প্রথম আলো, ফেব্রুয়ারী ১০, ২০১০